তথ্য খোঁজা, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা সরকারি সেবা গ্রহণ মালয়েশিয়ায় দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এবার ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটিকে ‘এআই জাতি’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বড় ধরনের কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার।
জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কর্মপরিকল্পনা ২০২৬–২০৩০ এর মাধ্যমে দায়িত্বশীলভাবে এআইয়ের ব্যবহার ও উন্নয়ন বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, সরকারি সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসায় প্রযুক্তিটির ব্যাপক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
সরকারের লক্ষ্য, ২০৩০ সালের মধ্যে এআইয়ের মাধ্যমে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে অতিরিক্ত ১ দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট যোগ করা এবং বৈশ্বিক এআই সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে মালয়েশিয়াকে নিয়ে আসা। একই সঙ্গে এআই সংশ্লিষ্ট ৩ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাধারণ মানুষের জীবনে এর সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়তে পারে সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক সরকারি প্রশাসন গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি সেবা দ্রুত ও সহজ করার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এরই একটি প্রাথমিক উদাহরণ হচ্ছে ‘মাইগভ মালয়েশিয়া’। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মটির ব্যবহারকারী ২৯ লাখ ছাড়িয়েছে। ১৯টি সরকারি সংস্থার ৫২টি সেবা এতে যুক্ত রয়েছে। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে মাইজেপিজে, মাইসেজাহটেরা, প্রাইসক্যাচার, পোর্টাল ম্যানফাত, জনগণের নগদ সহায়তা-সংক্রান্ত সেবা এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা।
এখন মাইগভ প্ল্যাটফর্মে ‘এজেন্টিক এআই’ পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হচ্ছে। প্রচলিত চ্যাটবটের তুলনায় এ ধরনের এআই ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বুঝে সংশ্লিষ্ট সেবা শনাক্ত করতে পারে এবং অনুমোদিত ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ধাপগুলো সম্পন্ন করতেও সহায়তা করতে পারে। সরকারের দেওয়া উদাহরণ অনুযায়ী, একজন ব্যবহারকারী পুলিশের জরিমানার তথ্য যাচাই করার পর সরাসরি অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়ায় যেতে পারবেন।
তবে এই ব্যবস্থা ধাপে ধাপে চালু করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যের নির্ভুলতা এবং মানুষের তদারকি সবকিছুকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি বিভিন্ন সেবায় এরই মধ্যে এআইয়ের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, মাইজেপিজে- ড্রাইভিং ও যানবাহন-সংক্রান্ত সেবা, মাইসেজাহটেরা- স্বাস্থ্যসেবা, প্রাইসক্যাচার- পণ্যের মূল্যসংক্রান্ত তথ্য, পোর্টাল ম্যানফাত- সরকারি সহায়তার তথ্য, জনগণের নগদ সহায়তা কর্মসূচি, মাইএসপিআর সেমাক- নির্বাচনসংক্রান্ত তথ্য, অভিবাসন- পাসপোর্ট ও অভিবাসনসেবা, পরীক্ষা-সংক্রান্ত সেবা ও ফলাফল।
ডিজিটাল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোট ১৯টি সরকারি সংস্থা এ উদ্যোগে যুক্ত রয়েছে। তবে সর্বশেষ ঘোষণায় প্রতিটি সংস্থার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
ডিজিটালমন্ত্রী গোবিন্দ সিং দেও মালয়েশিয়ার এআই উদ্যোগকে ‘জাতীয় পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এতে সরকার, শিল্প খাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ সব পক্ষকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এআইয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে চাকরির বাজারে। ২০৩০ সালের মধ্যে এআই সংশ্লিষ্ট ৩ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও কোন পেশায় কতটি চাকরি সৃষ্টি হবে, তার বিস্তারিত হিসাব এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
তবে ট্যালেন্টকর্পের গবেষণায় ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় পেশার মধ্যে এআই প্রকৌশলী, এআই ও মেশিন লার্নিং অ্যাপ্লিকেশন প্রকৌশলী, এআই সমন্বয় প্রকৌশলী, তথ্যবিজ্ঞানী, তথ্য প্রকৌশলী, এআই নিরীক্ষক এবং এআই নীতিবিদসহ বিভিন্ন পেশার কথা উঠে এসেছে।