ঢাকা, শনিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১২ চৈত্র ১৪২৯, ২ জ্বমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ক্যাশলেস লেনদেনে বাংলাদেশ



ক্যাশলেস লেনদেনে বাংলাদেশ

ক্যাশলেস লেনদেনে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ লেনদেনে থাকছে না কাগুজে মুদ্রা। এর মাধ্যমে ব্যাংক থেকে ব্যাংক, এমএফএস থেকে পিএসপিতে, আবার এমএফএস থেকে ব্যাংক ও পিএসপিতে, শুধু তাই নয় এছাড়াও পিএসপি থেকে ব্যাংক এবং এমএফএসে লেনদেন করতে পারবে। কেনাকাটা করা যাবে নগদ টাকা ছাড়াই। লেনদেনে লাগবে না কোনো ধরণের ব্যাংক একাউন্ট নম্বর। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সেবা চালুর মাধ্যমে দেশে ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।  সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মাধ্যমে বন্ধ হবে অর্থপাচারসহ সবধরণের অবৈধ লেনদেন। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ইতিমধ্যে ব্যাংক ও এমএফএসগুলো যেভাবে নিজেদের প্রযুক্তির উন্নয়ন করে নতুন নতুন সেবা চালু করেছে, তাতে বিনিময়কে এগোতে বেশ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

ভারতের ইউনাইটেড পেমেন্ট ইন্টারফেসের (ইউপিআই) আদলে হচ্ছে দেশের ইন্টার অপারেবল ডিজিটাল ট্রানজেকশন প্ল্যাটফর্ম (আইডিটিপি), যা বিনিময় নামে পরিচিত হবে। এটি একটি ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, যাতে সমস্ত ব্যাংক, মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) এবং পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী (পিএসপি) ও অন্যান্য পরিশোধ সেবাদানকারীগণ সংযুক্ত  থাকবে। বিনিময় বিভিন্ন পেমেন্ট পরিসেবা প্রদানকারীর মধ্যে লেনদেনে ইন্টার-অপারাবিলিটি নিশ্চিত করবে এবং ভোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মার্চেন্ট, সরকারী সংস্থাসহ অন্যান্য পরিশোধ সেবাদানকারীগণ এই সিস্টেমের মাধ্যমে ২৪/৭ রিয়েল টাইম লেনদেন করতে পারবেন। এটি দেশে কার্যরত সকল ই-ওয়ালেট (পিএসপি হিসাব, এমএফএস হিসাব) এবং ব্যাংক হিসাবের মধ্যে অর্থ স্থানান্তরের একটি মাধ্যম। ব্যবস্থাটি অন্যান্য আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের ইন্টারঅপারেবিলিটি নিশ্চিত করবে।

বিনিময় একটি নগদ অর্থ হ্রাস (ক্যাশলেস) সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমে অন্তর্ভুক্তির ফলে অর্থনৈতিক দক্ষতা উন্নয়, স্বচ্ছতা আনয়ন এবং নাগরিকদের অসুবিধা কমানোর পাশাপাশি প্রতারণামূলক লেনদেন কমানো সম্ভব হবে। এটি দেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। আপাতত টাকা স্থানান্তরে গ্রাহকদের কোনো মাশুল গুনতে হবে না। পরবর্তী সময়ে এই সেবার মাশুল নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সরকারি সেবা হওয়ায় মাশুল হবে কম। আর সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলো মাশুল নিলেও আইডিটিপি কোনো খরচ নেবে না।

একজন গ্রাহক কিভাবে এতে যুক্ত হবেন এবং কিভাবে লেনদেন করবে?

একজন গ্রাহক সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরবরাহকৃত মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে “বিনিময় এ রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশনের পর প্রত্যেক গ্রাহককে একটি ভার্চুয়াল আইডি করতে হবে। ব্যক্তিগত ভার্চুয়াল আইডির মতো মার্চেন্ট ভার্চুয়াল আইডিও করা যাবে। এখানে দুই ধরনের লেনদেন সম্পাদন করার সুযোগ থাকছে, সরাসরি পরিশোধ (ডিপি) এবং পরিশোধের অনুরোধ (আরটিপি)| ডিপির মাধ্যমে গ্রাহক তার হিসাব থেকে অন্য গ্রাহকের হিসাবে অর্থ প্রেরণ করতে পারবে, অন্যদিকে আরটিপির সাহায্যে অন্যের হিসাব হতে অর্থ গ্রহণ করতে পারবে।

ডিপির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র রিসিভারের এবং আরটিপির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অনুমোদনকারীর ভার্চুয়াল আইডির মাধ্যমেই লেনদেন করা সম্ভব। এক্ষেত্রে অন্য কোনো তথ্য যেমন একাউন্ট নাম্বার, মোবাইল নাম্বার, এনআইডি কিংবা অন্য কোনা ব্যক্তিগত তথ্য জানানোর প্রয়োজন নেই। একজন ব্যক্তির একাধিক হিসাব থাকলে এবং একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে থাকলে, অন্য কোনো দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানের হিসাবের বিপরীতে পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করতে চাইলে “বিনিময়উক্ত গ্রাহকের এনআইডি গ্রাহকের  পরীক্ষান্তে জানতে পারবে যে, তিনি ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রার্ড। ফলে, তার প্রোফাইলে প্রথম প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি পরবর্তী প্রতিষ্ঠানের তথ্য নতুন করে সন্নিবেশ করা হবে। অর্থাৎ একজন গ্রাহক তার প্রোফাইলে একাধিক হিসাব যোগ করতে পারবেন যার মধ্য থেকে একটি হিসাব, ডিফল্ট হিসেবে নির্বাচন করতে হবে। লেনদেন সম্পাদনের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের জন্য (৬ ডিজিট পিন ব্যবহার করতে হবে।

অংশগ্রহণকারী গ্রাহকের সাথে ব্যবহৃত ফোন রেজিস্ট্রেশন করা থাকবে। ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন আইডি টু ফ্যাক্টর অথরাইজেশনের ১টি ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে। মোবাইল ডিভাইস বা পিন নম্বর পরিবর্তন করতে চাইলে বর্তমানে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিউর অনুসৃত হবে। একজন ব্যবহারকারী, মার্চেন্ট App./Web portal ব্যবহার করে মার্চেন্ট হিসেবে সফলভাবে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করলে উক্ত মার্চেন্ট Web porta হতে বাংলা QR জেনারেশন অপশনে গিয়ে QR Code তৈরী করে প্রিন্ট করে তা কাউন্টারে স্থাপন করতে পারবে এবং যে কোনো আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের Mobile App. এর মাধ্যমে ক্রেতারা উক্ত QR Code স্ক্যান করে পেমেন্ট ইনিশিয়েট করতে পারবেন।

বিনিময়ের মূখ্য সমন্বয়ক ও সিনিয়র পরামর্শক মোস্তফা সাজ্জাদ হাসান এফসিএ বলেন, ‘বিনিময় বাস্তবায়িত হলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হবে যা ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনে সহায়ক, সর্বোপরি অর্থ জালিয়াতি, মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন সহ অন্যান্য অর্থনৈতিক অপরাধ রোধে সহায়ক হবে। বিনিময়ের যে ফিচার ও ক্যাপাসিটি তা অদূর ভবিষ্যতে ভারতের ইউপিআইকেও ছাড়িয়ে যাবে।

মোস্তফা সাজ্জাদ বলেন, উদ্বোধন করা হচ্ছে অল্পকিছু সুবিধা নিয়ে। সময়ের সাথে সাথে নতুন নতুন সুবিধা যোগ হবে। এটি কোনো আলাদা অ্যাপ নয়। এটি একটি পরিষেবা হিসাবে ব্যাংক এবং এমএফএসের অ্যাপকে একীভূত করবে। তবে গ্রাহকদের সুবিধাটি ব্যবহার করতে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের পর গ্রাহকের নামের পরে binimoy.gov.bd যুক্ত হয়ে একটি আইডি তৈরি হবে। নিবন্ধন শেষ হলে গ্রাহক দুটি অপশন দেখতে পাবেন ‘সেন্ড মানি ও ‘রিসিভ মানি। গ্রাহক যদি কাউকে টাকা পাঠাতে চান, তখন সেন্ড মানি অপশনে গেলে নিজের যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট আছে, তা থেকে একটি বেছে নিতে হবে। এবার যাকে পাঠাবেন, তার মুঠোফোন নম্বর বা ইতিমধ্যে যদি ওই ব্যক্তির বিনিময়ে আইডি থাকে, সে আইডি নম্বর দিয়ে টাকা পাঠানো যাবে। আর যাকে টাকা পাঠানো হলো, তিনি ‘রিসিভ মানি অপশনে গিয়ে নিজের অ্যাকাউন্টে থাকা যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নম্বরে টাকাটা গ্রহণ করতে পারবেন। প্রথম পর্যায়ে বিনিময়ে শুধু লেনদেন করা যাবে, পরবর্তী সময়ে বিনিময় অ্যাপ হবে। এরপর ধাপে ধাপে মেট্রোরেলের ভাড়া, টোল দেওয়া, এনবিআরের সেবা ও বিভিন্ন পরিষেবা বিল যুক্ত হবে।

বিনিময়ের মূখ্য সমন্বয়ক বলেন, এর মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ অর্থ লেনদেন, স্থানান্তর, ই-কমার্স, এম-কমার্স, বিল পেমেন্ট, মার্চেন্ট পেমেন্ট, রেমিটেন্স আদান প্রদান, মেশিন-টু-মেশিন পেমেন্ট ইত্যাদি সম্পন্ন করবে। ইন্টারঅপারেবল ডিজিটাল ট্রানজেকশন প্ল্যাটফর্ম (আইডিটিপি) বিভিন্ন পেমেন্ট সার্ভিস অংশগ্রহণকারীদের লেনদেনের সেতুবন্ধন তৈরি করবে। এর মাধ্যমে সকল আর্থিক লেনদেন দ্রুত, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী হবে (যেমন গ্রাহক, মার্চেন্ট, অর্থ প্রদান ও গ্রহণকারী, পেমেন্ট প্রসেসর, ই-ওয়ালেট, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর, এবং সরকারী-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান)। আইডিটিপি বাস্তবায়িত হলে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হবে যা ক্যাশলেস সোসাইটি গঠনে সহায়ক, সর্বোপরি অর্থ জালিয়াতি, মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নসহ অন্যান্য অর্থনৈতিক অপরাধ রোধে সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য আন্তঃপরিচালনা সুবিধা ১৩ নভেম্বর থেকে শুরু হবে। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয় উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিকাশ, রকেট, এমক্যাশ এবং আরও একটি এমএফএস কোম্পানির পাশাপাশি ১২টি ব্যাংক গ্রাহকদের প্রথম পর্যায়ে সরবরাহ করার সুবিধা প্রদান করবে। এই সুবিধাটি ব্যবহার করে, একজন গ্রাহক তাদের এমএফএস অ্যাপ থেকে অন্য এমএফএস অ্যাপে টাকা পাঠাতে বা গ্রহণ করতে পারবেন। আপাতত, মানি ট্রান্সফারের জন্য গ্রাহকদের কোনো ফি দিতে হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরবর্তীতে এই সেবার জন্য ফি নির্ধারণ করবে।

এ পর্যন্ত বিনিময়ের সঙ্গে কাজ করতে আইডিটিপি সিস্টেমের কার্যকারিতা পরীক্ষা করণের জন্য ১২ টি ব্যাংক যুক্ত হয়ছে। ব্যাংকগুলো হলো, সোনালি ব্যাংক,  ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, ইস্টার্ন ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, মির্ডল্যান্ড ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, দ্যা সিটি ব্যাংক লি, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং ডাচ বাংলা ব্যাংক। এছাড়াও আইডিটিপি সিস্টেমের কার্যকারিতা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে, ১টি বিকাশ, ২টি পিএসপি রিকারশন ফিনটেক ও প্রগতি সিস্টেমস।

ডিজিটাল সেবা দেয়ার জন্য একটি ব্যাংকের যে ধরণের সক্ষমতা এবং দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন ব্যাংকগুলোর কি তা আছে? জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মূখপাত্র আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি শুরুতেই দূঃখ্য প্রকাশ করছি। সেবাটি উদ্বোধনের আগে এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারছি না। ১৩ তারিখের পরে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে পারবো।

“বিনিময় ব্যবস্থার লেনদেন কতটুকু নিরাপদ? যা বললেন মোস্তফা সাজ্জাদ।

“বিনিময় ব্যবস্থার লেনদেন তথ্যপ্রযুক্তিগতভাবে খুবই নিরপাদ। ডাটা মেশনের সময় “বিনিময় ব্যবস্থাপনায় ৩ স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।  বিনিময়ে বেশ কয়েকটা বিষয় নিশ্চিত করার পরই কেবলমাত্র লেনদেন নিশ্চিত করা হয়। সঠিক মোবাইল থেকে লেনদেন করা হচ্ছে কি না, ব্যবহারকারী তার একান্ত পিন নম্বর ব্যবহার করছেন কি না, আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে OTP ব্যবহার করে ভেরিফাই করা হয়। বর্তমানে “বিনিময় ব্যবস্থাপনায় কার্ড লেনদেনের অন্তর্ভুক্তি নেই। তবে কার্ড লেনদেনের ফিচারটি বিনিময়ের পরবর্তী কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের এই লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ ব্যাংক ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ সম্মিলিতভাবে ইন্টারঅপারেবল ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম (বিনিময়) প্রতিষ্ঠা করেছে। শুরুতে বিনিময়ের  জন্য খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ৫৫ কোটি টাকা। পরে খরচ বেড়ে হয় ৬৫ কোটি টাকা। মূলত চারটি প্রতিষ্ঠান এ প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ করে। প্রতিষ্ঠান চারটি হলো, ওরিয়ন ইনফরম্যাটিকস লিমিটেড, মাইক্রোসফট বাংলাদেশ লিমিটেড, ফিনটেক সল্যুশন লিমিটেড ও সেইন ভেঞ্চারার্স লিমিটেড (জেভি)। এর মধ্যে ওরিয়ন ইনফরম্যাটিকস লিমিটেড ও ফিনটেক সল্যুশন লিমিটেড রক্ষণাবেক্ষণ সেবা দিয়ে যাবে।

এর আগে ২০২০ সালের অক্টোবরে, বাংলাদেশ ব্যাংক এমএফএস পরিষেবা প্রদানকারীদের মধ্যে একটি আন্তঃপরিচালনাযোগ্য সিস্টেম চালু করার উদ্যোগ নেয়। একই বছরের ২৭ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেবাটি চালুর কথা ছিল। এ নিয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে উদ্যোগটি বন্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ সব প্রস্তুতি নিয়েও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর একটির সঙ্গে আরেকটির পারস্পরিক লেনদেনের প্রক্রিয়া, অর্থাৎ এক এমএফএস থেকে অন্য এমএফএসে টাকা পাঠানোর সেবা চালু করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। কারণ, তখন এতে যুক্ত হয় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ। নেওয়া হয় নতুন সরকারি প্রকল্প। তখন ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) মাধ্যমে বিকাশ টু রকেট, বিকাশ/রকেট টু ব্যাংক- এভাবে টাকা স্থানান্তরের সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে তা আর চালু করা সম্ভব হয়নি।


   আরও সংবাদ